আজ রবিবার ২৫শে জুলাই, ২০২১ ইং রাত ৯:২১

add

শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জে দেয়াল ধ্বসে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
মৃত্যুপুরীতে রূপ নিলো নারায়নগঞ্জ, ৫২ মরদেহ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান : তিনটি বোমা নিষ্ক্রিয়, দুই জঙ্গি আটক
রূপগঞ্জে অ’গ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকসহ গ্রে’প্তার আট
রূপগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, গণমাধ্যমের গাড়ি ভাংচুর
অগ্নিকাণ্ডে দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না: র‌্যাব ডিজি
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে আহাজারি, শোকাবহ পরিবেশ

তিন যুগ ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে নওগাঁর ১০৮ কক্ষের দোতলা মাটির বাড়ি

আলোকিত সোনারগাঁও ডেস্ক : গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে মাটির বাড়ি অন্যতম। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো দেখা যায় এই বাড়িগুলো। এটি যে শুধু ঐতিহ্য বহন করছে তা কিন্তু নয়, শীত, গ্রীষ্ম বর্ষা সবসময়ই বসবাসের জন্য আরামদায়ক। একসময় গ্রামের বিত্তশালীরা অনেক টাকা-পয়সা ব্যয় করে মাটির বাড়ি তৈরি করতেন। তবে ইট, বালি ও সিমেন্টের আধুনিকতায় মাটির বাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

 

বাংলাদেশ ছাড়া মাটির বাড়ি আর কোথাও তেমন দেখাই যায় না। যদিও জার্মানির ভাইমার শহরে দেখা যায় খড়ের তৈরি বাড়ি। খড়ের সঙ্গে তারা মাটি মিশিয়ে এই বাড়িগুলো তৈরি করে। তবে আমাদের দেশে তৈরি মাটির বাড়িগুলোতে অন্য কিছু ব্যবহার হয় না। এতেও যুগ যুগ ধরে স্থায়ী হয় এই বাড়িগুলো। নওগাঁ, বগুড়া ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় এই বাড়িগুলো বেশ বিখ্যাত। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে রয়েছে ৩৩ বছর আগে বানানো ১০৮ কক্ষের একটি মাটির বাড়ি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এটি দেখতে আসেন।

 

১৯৮৬ সালে তিন বিঘা জমির ওপর এই মাটির বাড়ি তৈরি হয়। এর দৈর্ঘ্য ৩০০ ফুট ও প্রস্থ ১০০ ফুট। এটি দেখতে অনেকটা রাজপ্রাসাদের মতো। ৩৩ বছর আগে মাটির দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন দুই সহোদর সমশের আলী মণ্ডল ও তাহের আলী মণ্ডল। এই দুই সহোদর ছিলেন শৌখিন মানুষ। তারাই প্রথম ১০৮ কক্ষের মাটির বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। আজ তাদের কেউই বেঁচে নেই। তবে এই বাড়িটি এখনো তাদের স্মৃতি ধরে আছে। বাড়িটিতে ৯৬টি বড় ও ১২টি ছোট কক্ষ রয়েছে।

 

৩৩ বছর আগে মাটির দোতলা এই বাড়িটি নির্মাণ করতে নয় মাস থেকে এক বছর সময় লেগেছিল। সেই সময় এর পেছনে কাজ করেছিল শতাধিক শ্রমিক। বাড়িসহ আশেপাশে তাদের মোট ২১ বিঘা জমি রয়েছে। বাড়িটি তৈরির জন্য একটি বিশাল পুকুর খনন করতে হয়েছিল। পুকুরের মাটি ব্যবহার করা হয়েছিল বাড়ি তৈরিতে। মাটির বাড়ি বানাতে মাটি, খড় ও পানি ভিজিয়ে কাদায় পরিণত করতে হয়। তারপর ২০ থেকে ৩০ ইঞ্চি চওড়া দেয়াল দিতে হয়। এই দেয়াল বানানো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ একসঙ্গে বেশি উঁচু করে মাটির দেয়াল তৈরি করা যায় না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল বানাতে হয়। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে এর ওপর একই উচ্চতার দেয়াল গড়ে তোলা যায়।

 

 

পায়ে হেঁটে একবার বাড়ির চারপাশে ঘুরে আসতে সাত থেকে আট মিনিট লেগে যায়। ১০৮ কক্ষের এই বিশাল বাড়িতে প্রবেশের দরজা আছে সাতটি। তবে প্রতিটি ঘরে রয়েছে একাধিক দরজা। দোতলায় ওঠার সিঁড়ি রয়েছে ১৮টি। তবে যেকোনো একটি দরজা দিয়ে যাওয়া যাবে ১০৮ কক্ষেই। উপর তলায় যাওয়ার জন্য রয়েছে মাটির সিঁড়ি। তবে দেখে বোঝার উপায় নাই যে এটি মাটি দিয়ে তৈরি বাড়ি। এটি দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের সমাগম ঘটে। এর সৌন্দর্যবর্ধনে চুন ও আলকাতরার প্রলেপ দেয়া হয়েছে।

 

স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে এই বাড়ি একটি পর্যটন স্পট হতে পারে। বাড়িটি দেখতে এসে পর্যটকরা রাতে থাকতে চাইলে উপজেলা প্রশাসন থেকে ডাকবাংলোয় থাকতে হয়। ভ্রমণপ্রেমীদের বিশ্রামের জন্য বাড়িটিকে ঘিরে অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

 

 

বর্তমানে বিজ্ঞান অগ্রসর হচ্ছে। ডিজিটালের আলোকবর্তিকা গ্রাম জনপদকেও ছুঁয়েছে। পরিবর্তনশীল এই সময়ের বাস্তবতাকে স্বীকার করেও এ কথা দ্বিধাহীন বলা যায়, আমাদের ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় ‘মাটির বাড়ি’ ঘরের আবেদন এখনো এতটুকু ফুরিয়ে যায়নি। মাটির ঘর গ্রামের মানুষের কাছে এখনো শান্তির নীড়।

 

তবে কালের পরিক্রমায় গফরগাঁওয়ের অন্যান্য ইউনিয়নের ন্যায় আজ সারাদেশে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি বাড়ি-ঘর হারিয়ে যেতে বসলেও গফরগাঁওয়ের টাঙ্গাব ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এখনো চোখে পড়ে গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী সারি সারি হাজার হাজার মাটির ঘর। ইটের বাড়ির পাশাপাশি মাটির তৈরি এই বাড়িগুলো সগৌরবে এখনো মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনো বাড়ির এসব মাটির ঘরে বিভিন্ন রকমের আলপনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিণত করে ৩-৪ ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। একতলা মাটির বাড়ির জন্য ১২ থেকে ১৪ ফুট উঁচু দেয়ালে কাঠ-বাঁশ অথবা লোহার এঙ্গেল দিয়ে সিলিং তৈরি করে তার ওপর টিনের ছাউনি দেয়া হয়। আর দোতলা বাড়ির জন্য ১৩ থেকে অন্তত ২৫ ফুট উঁচু দেয়াল তৈরি করে ১৩ ফুটের মাঝে তালের গাছের ফালি দিয়ে পাটাতন তৈরি করে দুই থেকে তিন ইঞ্চি মোটা কাঠের ছাউনি দেয়া হয়।

 

আর ২৫ ফুটের মাথায় একতলা বাড়ির ন্যায় টিনের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির বাড়ির মালিকদের দাবি, ভূমিকম্পেও মাটির ঘরের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। একেকটি মাটির ঘর এক থেকে ১৫০ বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়ে থাকে। অনেকে আছেন বিত্তশালী হয়েও মাটির ঘরে বসবাস করছেন শুধু বংশ পরপম্পরায় ঐতিহ্য ধরে রাখতে।

Print Friendly, PDF & Email
নামাজের সময়সূচি ২৫ জুলাই ২০২১
মোড়ে মোড়ে তল্লাশি, হাঁটছে মানুষ, বন্ধ গণপরিবহন
বাবরি মসজিদ ধ্বংসে অংশ নেয়া সেই নওমুসলিমের মৃত্যু
ঈদের দিন কিশোরী অপহরণ, মুক্তিপণ না দিলে পতিতালয়ে বিক্রির হুমকি
নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু
শোকের মাসে আ.লীগের সীমিত কর্মসূচি
তাহাজ্জুদের নামাজরত অবস্থায় যুবকের মৃত্যু
২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে
জাপান থেকে দেশে পৌঁছালো অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা
চিরনিদ্রায় শায়িত ফকির আলমগীর
চিরনিদ্রায় শায়িত জনপ্রিয় ইসলামী সঙ্গীত শিল্পী মাহফুজুল আলম
মহারাষ্ট্রে বন্যা ও ধসে ১৩৬ জনের মৃত্যু
কামরাঙ্গীরচরে মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার
জুমার নামাজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ইমাম
মাছের ড্রামের ভেতরে করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা
মোশারফ হোসেনের শেষ বিদায়,জানাযায় সোনারগাঁবাসীর ঢল
সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ আর নেই
করোনাকালে ঈদ: বিনোদনের খোঁজে বেরিয়েছে রাজধানীবাসী
রাজধানীতে জমে উঠেছে কোরবানির মাংস বেচাকেনা
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে ১৭ বাংলাদেশি নিহত
কোথায় ফোন দিয়ে কোন সেবা পাবেন?
হঠ্যাৎ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সিমেন্টের দাম
রিজিকের মালিক শুধুই আল্লাহ
মদনপুর থেকে আড়াইহাজার সড়কের নাম মাজাভাঙ্গা!
দুর্ঘটনায় নিহতরা শহীদ
খালেদা জিয়াকে দেখতে কারাগারে গেলেন ডা.বিরু
সোনারগাঁয়ে টেনশনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা
সরকারি স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা
সোনারগাঁয়ে পুলিশের উপর হামলা, এসআইসহ ৩ পুলিশ আহত, গ্রেফতার ৩
সারা দেশে নির্মাণ হচ্ছে ৫৬০টি মডেল মসজিদ , নারায়ণগঞ্জে ৫টি উপজেলায় জয়গা পরির্দশন
হুমকির মুখে বুড়িগঙ্গা নদীর অস্তিত্ব
জেনে নিন সেহরি ও ইফতারের সময়
ধনীর সম্পদে গরিবের হক
কবর নিরাপত্তার নামে চাঁদাবাজি
বিদায় ২০১৭, স্বাগত ২০১৮
সোনারগাঁয়ে হেভিওয়েট ৭ মনোনয়ন প্রত্যাশীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সোনারগাঁয়ে ইউপির সচিব মহিউদ্দিনের দুর্নীতি ও অনিয়ম থামাবে কে?
আল্লাহর পথে দানের বিনিময়
কে হচ্ছেন সোনারগাঁও উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি
দান ব্যবসার মূলধন বাড়ায়

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
প্রয়োজনীয় নাম্বার