নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের খুশি মলিন হয়ে গেছে নড়াইলের সন্তান ও কেরানীগঞ্জের এক মসজিদের ইমাম মাওলানা নাজমুল হোসেনের জীবনে। নাড়ির টানে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত বাসে অজ্ঞান পার্টির নৃশংস শিকার হয়েছেন তিনি। এক মাসের তারাবির কষ্টার্জিত হাদিয়া, বেতন এবং স্ত্রীর গলার হারসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার সম্পদ হারিয়ে এখন নিঃস্ব এই পরিবারটি।
ভুক্তভোগী মাওলানা নাজমুল হোসেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের চরচামারদহ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব। তার গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াগাতী (নয়াঘাটি) থানার কলাবাড়ীয়া গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন সকালে কর্মস্থলে ঈদের নামাজ পড়িয়েই তিনি স্ত্রী ও কন্যা তামান্নাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাজধানীর গুলিস্তান থেকে তারা ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি টিকিট কেটে বাসে ওঠেন। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রীবেশে থাকা সংঘবদ্ধ একটি অজ্ঞান পার্টির দল তাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সুকৌশলে স্প্রে বা রুমালে মাখানো চেতনানাশক ব্যবহার করে তাদের জ্ঞান হারানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা মাওলানা নাজমুলের পকেট থেকে রমজান মাসের তারাবির নামাজের হাদিয়া বাবদ প্রাপ্ত ৪০ হাজার টাকা এবং মাসিক বেতন ১৬ হাজার টাকাসহ নগদ মোট ৫৯ হাজার টাকা নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, অচেতন অবস্থায় তার স্ত্রী ও শিশু কন্যা তামান্নার শরীর থেকে স্বর্ণের গলার হার ও কানের দুল খুলে নেয় তারা, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকার উপরে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ খুইয়েছেন তিনি।
অচেতন অবস্থায় তাদেরকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হলে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বছরের সবচেয়ে খুশির দিনটিতে এমন সর্বনাশ মেনে নিতে পারছেন না ইমামের পরিবার ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও রাত জেগে মুসল্লিদের তারাবি পড়ানোর পরিশ্রমের অর্থ এভাবে লুটে নেওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইমাম নাজমুল হোসেন বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তারা অবিলম্বে নড়াইল ও ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং বাসের সিসিটিভি ফুটেজ ও টিকিট সিরিয়াল পরীক্ষা করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।