পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে আনিকা (২৬) নামের দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আনিকা কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের কালাচানের মেয়ে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আনিকা তাঁর স্বামী সাগর মিয়ার সাথে সোনারগাঁয়ের ওই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সাগর মিয়া স্থানীয় একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের দিন রাতে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে চরম মনোমালিন্য তৈরি হয়, যার করুণ পরিণতি ঘটে ঈদের দ্বিতীয় দিন সকালে। ঈদের পরদিন সকালে স্বামী সাগর মিয়া কর্মস্থলে চলে গেলে আনিকা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং ঘরের ভেতর থেকে ছোট সন্তানদের কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে আনিকাকে ঘরের সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তড়িঘড়ি করে স্থানীয়রা আনিকাকে উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনলেও এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ বা স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ নামিয়ে ফেলা হয়, যা আইনি তদন্তে জটিলতা তৈরি করতে পারে। পুলিশের অনুপস্থিতিতে কেন তড়িঘড়ি করে মরদেহ সরানো হলো, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। এটি কেবলই অভিমান থেকে আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় এই ঘটনাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।