নিজস্ব প্রতিবেদক: আমি সাংবাদিক না, পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে ভিডিও করি। কথাগুলো বলছিলেন তাইজুল, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ‘তাজু ভাই’ নামে পরিচিত। পেশায় ঢাকার একজন নির্মাণ শ্রমিকের হেল্পার হলেও, তার কাঁধে রয়েছে আট সদস্যের বিশাল এক পরিবারের ভার। অসুস্থ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের মুখে অন্ন তুলে দিতে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন এই তরুণ।
তাইজুল জানান, অভাবের যাতাকলে পিষ্ট জীবনে মানসিক প্রশান্তি খুঁজতেই তিনি ভিডিও তৈরি শুরু করেন। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তুলে ধরেন জীবনের না বলা কথাগুলো। তার মতে, ভিডিও করাটা তার কাছে কেবল শখ নয়, বরং জীবনের রূঢ় বাস্তবতা থেকে সাময়িক মুক্তির এক পথ।
নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে নারাজ তাইজুল। তবে তার কণ্ঠে ঝরে পড়ে এলাকার অবহেলার আক্ষেপ। তিনি বলেন, "আমাদের নারায়ণপুর এলাকায় কোনো সাংবাদিক যান না। চরের মানুষের কষ্ট কেউ দেখে না।" পেশাদার সংবাদকর্মী না হয়েও তাইজুল নিজের ভিডিওর মাধ্যমে নিজ এলাকার মানুষের সমস্যা, যাতায়াত কষ্ট এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনের করুণ চিত্র তুলে ধরছেন। একেই বর্তমান সময়ে অনেকে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে নানা সময় সমালোচনা কিংবা ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় তাকে। তবে এসবে দমে যাওয়ার পাত্র নন তাইজুল। তিনি স্পষ্ট জানান: মানুষের সমালোচনা আমাকে দমাতে পারবে না। আমার লক্ষ্য একটাই চরের মানুষের জীবনমান যেন উন্নত হয়, সেই কথা সবার সামনে তুলে ধরা।
একজন সাধারণ নির্মাণ শ্রমিক হয়েও তাইজুলের এই অদম্য স্পৃহা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তাইজুলের মতো যুবকরা যদি এভাবে এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, তবে হয়তো একদিন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে এই অবহেলিত জনপদ।
আট সদস্যের অন্নদাতা এই তরুণের স্বপ্ন, একদিন তার এলাকার মানুষের কষ্ট দূর হবে এবং তার পরিবার একটু সচ্ছলতার মুখ দেখবে।