আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইসরায়েলে স্মরণকালের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ জন বিদেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত দুইজনই চীনের নাগরিক এবং তারা ইসরায়েলের ইয়েহুদে একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে কর্মরত ছিলেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইয়েহুদে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো (shrapnel) এসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্যারামেডিকরা জানান, প্রায় ৪০ বছর বয়সী এক চীনা শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেক শ্রমিককে শেবা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
জরুরি সেবা বিভাগের দাবি, সাইরেন বাজার সময় ওই শ্রমিকরা সুরক্ষিত আশ্রয়স্থলে (Safe Room) ছিলেন না বলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। তবে এক প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক জানান, সাইরেন বাজার পর তারা নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিলেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কক্ষের অ্যাকুস্টিক ছাদটি ধসে পড়ে এবং পুরো এলাকা ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়।
অন্য একটি ঘটনায় অর ইয়েহুদায় সাইরেন বাজার সময় সুরক্ষিত স্থানে পৌঁছাতে না পেরে একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তেল আবিব পুলিশ ডিসট্রিক্টের উপ-কমান্ডার জিহাদ হাসান জানান, সতর্কবার্তার সময় ওই ব্যক্তি রাস্তায় থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জখম হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই পিতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে এই ভয়াবহ হামলা চালানোর নির্দেশ দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: হারেৎজ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।