আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই হামলার খবর প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে রণক্ষেত্র ছেড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের অপর শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা ও প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানায় প্রবেশ করতেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সশস্ত্র বাহিনীকে সরাসরি মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রক্ষেপণ করতে দেখা গেছে।
ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক বিবৃতিতে জানান, "শত্রুপক্ষের রণতরী আব্রাহাম লিংকনের প্রতিটি মুভমেন্ট আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এটি আমাদের নাগালে আসায় লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করা হয়েছে।" হামলার মুখে মার্কিন ক্যারিয়ারটি অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান। তবে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা সত্যতা নিয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের হামলার দাবির মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে গেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি রণতরীটিতে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপরই কৌশলগত কারণে সেটিকে রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন নৌবাহিনী।
এর আগেও ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার দাবি করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান রণতরীর একটির প্রস্থান এবং অন্যটিতে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
সূত্র: আনাদোলু, প্রেস টিভি ও ইরনা।