আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে মার্কিন হামলায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারের নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে রাশিয়ার হাতে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খোদ ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে রুশ জ্বালানির চাহিদা বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে বহু দেশ এখন জ্বালানির জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। মজার বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেল-গ্যাস বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে ভারতকে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকরা একে রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য একটি বড় 'লাইফলাইন' হিসেবে দেখছেন।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যদি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়, তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো এখন দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলছে। কারণ, জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তাদের জাতীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের এই আগ্রাসন একদিকে ইরানকে চাপে ফেললেও অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা