মুহাম্মদ আল আমিন, (এমএ): সমাপ্ত হলো পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, মুজদালিফায় রাতযাপন, জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ এবং মক্কা শরীফে হজের ফরজ তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারত) সম্পন্ন করেছেন বিশ্ব মুসলিমের প্রতিনিধিরা। হজের সব রোকন সম্পন্ন করার পর আল্লাহর মেহমানরা এখন অশ্রুসিক্ত চোখে আদায় করছেন ‘তাওয়াফে বিদা’ বা বিদায়ী তাওয়াফ। পরম আকাঙ্ক্ষিত কাবা শরীফকে শেষবারের মতো চোখের সামনে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন হাজিরা। মক্কার পর্ব চুকিয়ে এবার লাখো হাজীর কাফেলা রওনা হচ্ছে ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম নগরী মদিনা মুনাওয়ারার পানে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য স্বদেশ বা অন্য কোথাও রওনা হওয়ার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। এই তাওয়াফ আদায়ের সময় কাবা চত্বরে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কালো গিলাফে ঢাকা আল্লাহর ঘরের দিকে তাকিয়ে হাজিরা দুই হাত তুলে জীবনের সব গুনাহ মাফের আকুতি জানান। প্রিয় কাবা প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে অনেকের চোখ বেয়ে ঝরছিল অশ্রুধারা। কবুল হজের আশা বুকে নিয়ে, আল্লাহর দরবারে বারবার ফিরে আসার তাওফিক চেয়ে হাজিরা মক্কা ত্যাগ করছেন।
মক্কা থেকে মদিনার দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বাস ও আল-হারামাইন হাই-স্পিড ট্রেনে চড়ে হাজিরা এখন দলে দলে ছুটে চলছেন মদিনার পথে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত এবং মসজিদে নববীতে ইবাদতের এক অপার্থিব আকুলতা কাজ করছে সবার মনে।
হাদিস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি আমার ওফাতের পর আমার রওজা জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সঙ্গেই সাক্ষাৎ করল। (বায়হাকি)
মদিনায় পৌঁছে হাজিরা প্রথমেই ছুটে যাচ্ছেন মসজিদে নববীতে। সেখানে তারা আল্লাহর রাসুলের রওজা মোবারকের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আদব ও মহব্বতের সাথে সালাম পেশ করছেন। একই সাথে ইসলামের প্রথম দুই খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও হযরত ওমর ফারুক (রা.)-এর চরণেও সালাম জানাচ্ছেন।
হাজিরা মদিনায় সাধারণত অন্তত ৮ দিন অবস্থান করেন এবং মসজিদে নববীতে টানা ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায়ের চেষ্টা করেন। এছাড়া মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদ কুবা, মসজিদ কিবলাতাইন এবং ওহুদের যুদ্ধক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ইসলামিক দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন তারা।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কয়েকজন হাজী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে হজের সব ফরজ-ওয়াজিব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। কাবা শরীফকে বিদায় জানানোর কষ্ট যেমন বুকে চেপে ধরেছে, তেমনি মদিনায় প্রিয় নবীজির রওজায় সালাম দেওয়ার আকুলতায় মন ব্যাকুল হয়ে আছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
মদিনায় নির্দিষ্ট দিন অবস্থান ও ইবাদত-বন্দেগি শেষে হাজিরা মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। আল্লাহর দরবারে বিশ্ব মুসলিমের এই ত্যাগ ও হজ কবুল হোক-এই প্রার্থনা এখন সবার মনে।