আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইরান। এরই মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও আনাদোলুর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির বিশেষ সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। রেভল্যুশনারি গার্ড আরও দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা চারটি ‘অনুপ্রবেশকারী’ জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশ একে অপরের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
চলমান এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম নতুন করে আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা তিন সপ্তাহের মতো তেলের দাম বাড়ায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালির উপকূলে দেশটির হরমুজগান প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মার্কিন বোমাবর্ষণে দুটি সেতু ও একটি টানেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক শীর্ষ কমান্ডার মোহসেন রেজাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আর কয়েক দিন এই হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান আর বসে থাকবে না। এবার পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক অভিযানে নামবে ইরান।