আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা জটিলতা সত্ত্বেও ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা মিলছে। একদিকে দীর্ঘদিনের স্থগিত থাকা আন্তর্দেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম); অন্যদিকে রাজনৈতিক বৈরিতাকে পেছনে ফেলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে অর্থনীতি।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্দেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর বিষয়ে আলোচনায় বসেছে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারের (৮ সেপ্টেম্বর) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিনিধিরা একমত হলে আগামী মাস থেকেই মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া স্থগিত থাকা রেল প্রকল্প, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং জয়দেবপুর-কমলাপুর ডাবল লাইন নির্মাণ নিয়েও আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ সরবরাহের অংশ হিসেবে প্রথম ১৯টি কোচের রেক ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আগামী বছর থেকে যুক্ত হতে শুরু করবে।
কূটনৈতিক টানাপড়েন ও বিভিন্ন শুল্ক/অশুল্ক বাধা সত্ত্বেও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ভারতে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭.৬৭ শতাংশ বেশি। অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে এই প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।
বণিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতে বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় ভারতীয় আমদানিকারকদের কাছে বাংলাদেশি পোশাকের কদর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং বাণিজ্য বাধা দূর করতে কূটনৈতিক নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়ানো না গেলে এই সম্ভাবনাময় বাজার ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ও কূটনৈতিক দূরত্বের মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে। সম্প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনারের ভাষ্যে উঠে এসেছে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি-যখন অর্থনীতি রাজনীতির চেয়ে এগিয়ে যায়, তখন রাজনীতিও ধীরে ধীরে তার পেছনে চলে আসে। সীমান্ত যোগাযোগ চালু ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ দুই প্রতিবেশী দেশের টানাপড়েন কাটিয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।