আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালির অদূরে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর মধ্য দিয়ে গত জুলাই থেকে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নতুন করে সহিংস মোড় নিল।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, জর্ডানের কিং হোসেন ও আল-আজরাক ঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। ‘আগ্রাসী শক্তির জন্য শাস্তি’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিপক্ষের প্রযুক্তিগত-কারিগরি অবকাঠামো ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যে, আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে সমুদ্র মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই হামলা চালানো হয়।
জুলাই মাস থেকেই জর্ডান হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের একটি নতুন কেন্দ্রবিন্দু। এর আগে পাঁচ দিনের মধ্যে চার দফা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল তেহরান, যাতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হন এবং একাধিক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ভেতরে একাধিকবার পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছিল-এবার লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা সেই বিরতি ভেঙে দিল।
আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি মন্তব্য করেছেন, লারাকে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ করেছে। বাহিনীটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন হামলার জবাব হবে আরও বিধ্বংসী—উভয় ক্ষেত্রেই, অর্থনৈতিক ও সামরিক। শুধু জর্ডান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট জাহাজও ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ সরবরাহ হয়। এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরপর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সতর্কতা জারি হয়েছে, এবং কূটনৈতিক মহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, আল জাজিরা, রয়টার্স, প্রেস টিভি, সিএনএন, ফারস নিউজ এজেন্সি-র প্রতিবেদন অবলম্বনে।