নিজেস্ব প্রতিবেদক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর ত্যাগের মহিমায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিকে আরাফাত ময়দানে হজের মূল রুকন এবং মুজদালিফায় রাতযাপন শেষে মক্কার মিনায় পৌঁছেছেন লাখো হাজি। আজ বুধবার ভোর থেকেই হজের অন্যতম ওয়াজিব বিধান হিসেবে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করছেন তারা।
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। লাখো মানুষের আবেগ, ভালোবাসা আর জীবনের সব সঞ্চয় ঢেলে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার আকুল আবেদন। আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক খুতবা শ্রবণ এবং মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন শেষে আজ পবিত্র হজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতায় মক্কার মিনায় সমবেত হয়েছেন বিশ্বের ১৫ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
বুধবার ভোর থেকেই মিনার জামারায় শয়তানের প্রতীকী তিনটি কংক্রিট স্তম্ভ লক্ষ্য করে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন হাজিরা। মূলত মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ঐতিহাসিক ত্যাগের স্মৃতিকে চিরজাগ্রত রাখতেই এই প্রতীকী কঙ্কর নিক্ষেপ।
হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী- বাইতুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সায়ি এবং জামারাতে পাথর নিক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জিকির ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে সমুন্নত রাখা। প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানির আদেশ পালনে যাওয়ার সময় শয়তান যেখানে যেখানে কু-মন্ত্রণা দিয়েছিল, হজরত ইব্রাহিম (আ.) পাথর মেরে তাকে বিতাড়িত করেছিলেন। হাজিরা আজ তাঁরই সুন্নতের প্রতীকী অনুসরণ করছেন।
১০ জিলহজ তথা আজ বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি দেবেন হাজিরা। এরপর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন। পরবর্তী নির্দেশনানুযায়ী, ১১ ও ১২ জিলহজ জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (ছোট, মেজ ও বড় শয়তান) পর্যায়ক্রমে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা।
এদিকে হজের আনুষ্ঠানিকতার সমান্তরালে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।