আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান এমন কিছু বিধ্বংসী প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে, যা মোকাবিলা করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো। বিশেষ করে ইরানের অত্যাধুনিক 'হাইপারসোনিক' মিসাইল এবং 'কামিকাজে' ড্রোন প্রযুক্তির সামনে ইসরাইলের বিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’ ব্যবস্থা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এই সামরিক সক্ষমতাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মেয়াদের ইরান নীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের 'ফাত্তাহ-২' (Fattah-2) হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হলো এটি মাঝ আকাশে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, ফলে কোনো রাডার বা ইন্টারসেপ্টর একে আগে থেকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারছে না।
পাশাপাশি, ইরানের তৈরি 'শাহেদ' সিরিজের ড্রোনগুলো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আতঙ্ক। এই ড্রোনগুলো 'সোয়র্ম' বা ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ চালায়, যা একসঙ্গে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে যে কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' দেওয়ার কথা বললেও, বর্তমান সামরিক বাস্তবতায় তিনি সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইছেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রধান তিনটি কারণ হলো:
১. প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা: ইসরাইলের ওপর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেখা গেছে, ইরানের অনেক মিসাইল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
২. অর্থনৈতিক ঝুঁকি: ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, যা ট্রাম্পের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
৩. আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক: কেবল ইরান নয়, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের হাতেও এই আধুনিক অস্ত্র পৌঁছে যাওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন হুমকির মুখে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন আর কেবল প্রথাগত শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের ‘অপ্রতিরোধ্য’ ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলো মাটির গভীরে হওয়ায় সেগুলো আকাশপথে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক অবরোধের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।