নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় এবং জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সংসদ সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আগমনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিপুল জনসমাগমের কারণে নয়াপল্টন ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, তবে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরা।
দীর্ঘ লড়াই ও প্রবাস জীবন শেষে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নিজ দলীয় কার্যালয়ে বসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় প্রধানের এই সরাসরি উপস্থিতি তৃনমূলের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর রমনায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন যে, শনিবার তিনি নয়াপল্টন কার্যালয়ে বসবেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।