নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি যাত্রীসহ পদ্মা নদীর প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বহু যাত্রী নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। এছাড়া নুসরাত (২৯) নামের একজন নারী চিকিৎসককে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী বাসটি ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। এসময় ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ছোট (ইউটিলিটি) ফেরি সজোরে পন্টুনে এসে ধাক্কা দেয়। ফেরির প্রচণ্ড ধাক্কায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি উত্তাল পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি ডুবে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী প্রাণে বাঁচতে জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এসময় পন্টুন ও ফেরিতে থাকা সাধারণ মানুষ রশি ও লাইফবয় ছুড়ে দিয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
ঘটনার পরপরই গোয়ালন্দ ও আরিচা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি বিশেষ ইউনিট অভিযানে যোগ দেয়। বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসের অবস্থান শনাক্ত করে একটি হুক লাগাতে সক্ষম হয়েছে।
তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধার তদারকিতে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান জানান, দ্বিতীয় হুকটি লাগাতে পারলেই বাসটি ওপরে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ডুবুরিদের কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
বাসের ঘাট প্রতিনিধি মনির হোসেনের দাবি অনুযায়ী, বাসটিতে অন্তত ৪০ জন যাত্রী বাসের ভেতরেই ছিলেন। বিআইডব্লিউটিসি-র তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসটি পুরোপুরি ওপরে না তোলা পর্যন্ত ভেতরে আর কতজন আটকে আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারিতে বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাটের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অন্ধকার আর বৃষ্টির মাঝেও নদীর পাড়ে প্রিয়জনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন শত শত মানুষ।
ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা'র সহায়তায় বাসটি তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।