মুহাম্মদ আল আমিন (এম.এ) হাক্কানী বুযুর্গরা বলেন, দুনিয়াকে হাত ও পকেটে রাখা জায়েজ, কিন্তু অন্তরে রাখা না জায়েজ।
মাওলানা রুমী (রহ.) এই বিষয়টি বোঝাতে একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন: নৌকা চলার জন্য পানির প্রয়োজন, কিন্তু পানি যখন নৌকার ভেতরে ঢুকে যায়, তখন নৌকা ডুবে যায়।
আমাদের সবসময় এই শিক্ষা দিয়েছেন যে, দুনিয়া আমাদের জন্য—আমরা দুনিয়ার জন্য না।
ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন-এ বলেছেন—মানুষের অন্তর হলো আল্লাহর জন্য, আর দুনিয়া হলো মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য। যখন দুনিয়া অন্তরে ঢুকে যায়, তখন তা মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে নিয়ে যায়।
একইভাবে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) বলেছেন—দুনিয়ার প্রতি আসক্তি সব গুনাহের মূল। তবে দুনিয়া ব্যবহার করা, উপার্জন করা—এগুলো ইবাদতের অংশ হতে পারে, যদি নিয়ত ঠিক থাকে।
হক্কানি বুযুর্গ মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন“হাতে দুনিয়া রাখা সহজ, কিন্তু অন্তরে দুনিয়া না রাখা—এটাই আসল মুজাহাদা।”
আজ আমরা দুনিয়ার পেছনে এমনভাবে দৌড়াচ্ছি যে, আমাদের অন্তর দুনিয়ায় ভরে গেছে। অথচ আল্লাহ চান—আমরা দুনিয়ায় থাকবো, কিন্তু দুনিয়া আমাদের অন্তরে জায়গা না পাক।
শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) বলেছেন—“তুমি দুনিয়াকে তোমার হাতের মুঠোয় রাখো, কিন্তু অন্তরে জায়গা দিও না। কারণ অন্তর হলো আল্লাহর ঘর।”
সুতরাং আমাদের করণীয়: দুনিয়া উপার্জন করবো, কিন্তু হালাল পথে দুনিয়া ব্যবহার করবো, কিন্তু আল্লাহকে ভুলে নয়
অন্তরকে পরিষ্কার রাখবো আল্লাহর ভালোবাসা দিয়ে
শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করি—আল্লাহ যেন আমাদেরকে দুনিয়ার ফিতনা থেকে হেফাজত করেন এবং আমাদের অন্তরকে তাঁর ভালোবাসায় ভরে দেন। আমীন।