মুহাম্মদ আল আমিন (এমএ): ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যক্তির নিজেকে ‘নবী’ দাবি করার ঘটনার প্রতিবাদে তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামারা ফুঁসে উঠেছেন। বিতর্কিত এই দাবির তীব্র নিন্দা, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্থানীয় আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে উপজেলায় পৃথক মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার বিকেলে উপজেলার টিকরপুর এলাকার প্রধান সড়কে নবাবগঞ্জ ওলামা পরিষদ এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বাদ আছর গালিমপুর বাজার স্ট্যান্ড সংলগ্ন নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এসব কর্মসূচিতে নবাবগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
গালিমপুর ব্রিজের সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস অনুযায়ী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ই সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। অথচ বরকতুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির অনুসারীরা ইসলামের এই মূল আকীদা অস্বীকার করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বরকতুল্লাহর অনুসারী ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারিভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা করা, তাদের সব ধরনের ধর্মীয় অপপ্রচার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ করা এবং মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতীক ও চিহ্নের ব্যবহার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা। এছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক আকীদার শিক্ষা দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যপুস্তকে খতমে নবুওয়তের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।
আলেম নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলার রামনাথপুর গ্রামে বরকতুল্লাহর বাড়িতে এখনো বহিরাগতদের আনাগোনা চলছে।
এর পাশাপাশি গত বছরের ৭ জুন ঈদুল আজহার দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভাড়াটে লোক এনে স্থানীয় বড়গাঁও এলাকার মুসল্লিদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ওই হামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবদুল্লাহ, আবদুল বারী, বেলায়েত হোসেন ও আজহার আলীসহ সংশ্লিষ্টদের অনতিবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তোলা হয়। একই সাথে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আগামী ২৮ মে গালিমপুর ইউনিয়নের রামনাথপুরের ওই বাড়িতে যেকোনো ধরনের কথিত আয়োজন বা জমায়েত বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
শনিবার বিকেল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে দলে দলে মানুষ গালিমপুর বাজার স্ট্যান্ড সংলগ্ন নতুন ব্রীজে মিছিলসহ লোকজন জড়ো হতে থাকে । এ সময় নবুয়ত দাবিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ঈমান রক্ষায় মুসলিম এক হও ইত্যাদি স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল টিকরপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিশিষ্ট আলেম ও খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ নবাবগঞ্জ উপজেলার সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ জাকির বলেন, নবুওয়তের আকীদা মুসলিম উম্মাহর ঈমানের মূল ভিত্তি। নবাবগঞ্জের শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সুকৌশলে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় বরকতুল্লাহর অনুসারীরা উল্টো স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরা অবিলম্বে এই সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধন শেষে নবাবগঞ্জ ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মাওলানা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, "আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।