নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৬ জুলাই, আত্মত্যাগে মহিমান্বিত ঐতিহাসিক 'জুলাই শহীদ দিবস'। ২০২৪ সালের এই রক্তঝরা দিনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যে অনন্য সাহসিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক নতুন গৌরবান্বিত অভিযাত্রার সূচনা করেছিল।
আজ এই ভাবগম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ দিবসে রায়েরবাজার জুলাই শহীদ গণকবরে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। আজ সকালে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
পুষ্পস্তবক অর্পণকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব, ঢাকা বিভাগের মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার এবং ঢাকার শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক মহোদয়। তাঁরা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সকল বীর শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর সন্তানদের আত্মার শান্তি কামনা এবং একটি সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের জন্য মহান স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
শহীদদের এই মহান আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের মূল চেতনাকে আমাদের বুকে ধারণ করতে হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন, শহীদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর বীরত্ব দেশবাসীকে যে অভূতপূর্ব জাগরণ এনে দিয়েছিল, তারই ফসল আজকের এই নতুন পথচলা। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের অঙ্গীকারকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া যাবে না। শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য ও কর্মপ্রচেষ্টা অবিচল রাখার আহ্বান জানান তাঁরা