গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে নির্ধারিত পাঠ্যসূচি উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূত ও রাজনৈতিক বক্তব্য সংবলিত ক্লাস করানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আনিসুজ্জামান শিকদারের পরিদর্শনের পরপরই একাডেমির নিয়মিত প্রশিক্ষক প্যানেল বাদ দিয়ে সাবেক ধর্মমন্ত্রীর জামাতাকে প্রশিক্ষণার্থী ইমামদের মুখোমুখি করা হয়। উক্ত ক্লাসে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘ফাঁসিতে ঝোলানোর’ হুমকি এবং শেখ হাসিনার প্রশংসাসহ তাঁর দেশে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে সুশীল সমাজ ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২২ আগষ্ট) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার নিজে গোপালগঞ্জ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি পরিদর্শনে যান এবং একটি ক্লাস পরিচালনা করেন। তবে এর পরপরই একাডেমির নির্ধারিত প্রশিক্ষণসূচি উপেক্ষা করে সাবেক ধর্মমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর জামাতাকে দিয়ে ইমামদের ক্লাস নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, তিনি উক্ত একাডেমির তালিকাভুক্ত বা নিয়মিত কোনো প্রশিক্ষক নন।
উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থী ইমামদের অভিযোগ , নির্দিষ্ট বিষয়ের পাঠদান বাদ দিয়ে ওই ক্লাসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়। এমনকি শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরবেন-এমন মন্তব্য করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে 'ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার' হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, নিয়মবহির্ভূত সেই ক্লাসের শেষে অনুষ্ঠিত মুনাজাতেও বঙ্গবন্ধু ও সাবেক ধর্মমন্ত্রীর জন্য দোয়া করা হয়, যা পরিচালনা করেন খোদ পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার।
একটি সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত পাঠ্যসূচি তোয়াক্কা না করে বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে ক্লাস করানো এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও প্রশিক্ষণার্থীরা। ঘটনাটি সামনে আসার পর ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির নির্ধারিত প্রশিক্ষণসূচি, প্রশিক্ষক নিয়োগের নিয়মকানুন এবং সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রাজনৈতিক বক্তব্যের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তি নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুরো ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার অভিযোগ আংশিক অস্বীকার করে বলেন, তিনি একাডেমি পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসনিক প্রথা অনুযায়ী শুধু সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।