মুহাম্মদ আল আমিন,(এমএ) : খাতায়-কলমে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ তিন দশক। একের পর এক শেষ হয়েছে সাতটি পর্যায়। কিন্তু আজও কাটেনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোর ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করা প্রায় ৭২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্যের অনিশ্চয়তা। বলছি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ বা মউশিক প্রকল্পের কথা। ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বর্তমানে সফলভাবে অষ্টম পর্যায়ে থাকলেও, আজও এর অন্তর্ভুক্ত বিশাল জনবলকে নেওয়া হয়নি সরকারের রাজস্ব খাতে। ফলে নামমাত্র ভাতায় জীবনের পুরোটা সময় পার করে চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। চলমান অষ্টম পর্যায় চলাকালেই এই বৃহৎ প্রকল্পটিকে সরাসরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি এখন দেশজুড়ে জোরালো হয়ে উঠেছে।
সারা দেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি কেন্দ্র। যেখানে প্রতি বছর প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিক শিক্ষার পাঠ নিচ্ছে প্রায় ২৪ লাখ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার এই কারিগররা হলেন মউশিক প্রকল্পের শিক্ষক ও কর্মচারী।
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমাদের চাকরি জীবনের পুরোটা সময় কেটে গেল একটা 'প্রকল্প'-এর কর্মী হিসেবে। ৩৩ বছর ধরে আমরা একই দায়িত্ব পালন করে আসছি, অথচ আমরা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো কোনো বেতন কাঠামো বা চাকরির নিরাপত্তা পাই না। এই সামান্য ভাতায় সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেবল প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাই নয়, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এই শিক্ষকদের কাজের পরিধি বিশাল। বাল্যবিবাহ ও কুসংস্কার দূরীকরণ, মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির তথ্য সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতা তৈরিতে ফ্রন্টলাইন কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তাঁরা। অথচ কাজের এই বহুমুখী মূল্যায়নের বদলে জুটেছে কেবল অবহেলা আর বঞ্চনা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও আলেম সমাজের স্পষ্ট দাবি-প্রকল্পটির চলমান অষ্টম পর্যায় শেষ হওয়ার আগেই এটিকে সরাসরি সরকারের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। চাকরির স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তাঁরা।