মুহাম্মদ আল আমিন (এম.এ) : কওমি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তির সুযোগ তৈরি ও যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।

গতকাল শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাঠানটুলী এলাকায় আব্বাসী মঞ্জিল জৈনপুরী দরবার শরীফের গদ্দিনশীন পীর আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী পরিচালিত মাদরাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) বোর্ড অব গভর্নরস-এর নবনিযুক্ত দুই সদস্য (গভর্নর)-মারকাযুল হুদা আল-ইসলামী বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি আজাহারুল ইসলাম এবং নূরে মদীনা আল-আরাবিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুল দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কওমি ও দ্বীনি শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মতবিনিময় সভায় আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কওমি ও দ্বীনি মাদরাসাগুলো যুগ যুগ ধরে ইলমের চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিবাচক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সুন্নিয়াত ও দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছা থাকলে আলেম-ওলামারা দেশকে বিভ্রান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, দেশে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঠিক প্রচার ও প্রসারে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা অপরিসীম। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন ও সার্বিক অগ্রগতিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রায় সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মতবিনিময় সভা শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উলামায়ে কেরাম এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।