মুহাম্মদ আল আমিন (এম.এ): ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্ষদ বোর্ড অব গভর্নরস পুনর্গঠন করেছে সরকার। দেশের অন্যতম প্রখ্যাত আলেম, ধর্মীয় গবেষক ও চিন্তাবিদ নতুন গভর্নর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নূরে মদীনা আল-আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, যাত্রাবাড়ীর বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব এবং সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো: জেহাদুল বারী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে পরবর্তী তিন বছরের জন্য নতুন এই পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় তাত্ত্বিক ক্যাটাগরিতে মুফতি শরীফ উল্লাহ ছাড়াও গভর্নর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন-জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহতামিম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মো: মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং মারকাযুল হুদা আল-ইসলামী বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি আজাহারুল ইসলাম।
এছাড়া পদাধিকারবলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (চেয়ারম্যান), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান, ধর্ম সচিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সদস্য-সচিব) এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সরকার মনোনীত দুই সংসদ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সার্বিক নীতি নির্ধারণ, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় গবেষণা ও বিভিন্ন সামাজিক-কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় এই বোর্ড মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মুফতি শরীফ উল্লাহর মতো প্রজ্ঞাবান ও অভিজ্ঞ আলেমের অন্তর্ভূক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং লক্ষ্য অর্জনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ধর্মীয় ও চিন্তাশীল মহল।
তাঁর এই দায়িত্ব প্রাপ্তির খবরে দেশের ইসলামি পণ্ডিত, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দনের জোয়ার বইছে। নতুন যাত্রায় মুফতি শরীফ উল্লাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন শুভানুধ্যায়ীরা।
নতুন অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে মুফতি শরীফ উল্লাহ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও ইসলামের সেবায় ভূমিকা রাখা একটি বড় দায়িত্ব। পূর্ণ সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে যেন এই আমানত রক্ষা করতে পারি, সেজন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।