ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকীর বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটি। একই সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সদরুল আমিন এই প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি জানান।
অ্যাডভোকেট সদরুল আমিন তার বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর প্রতিটি স্তরে মেধাভিত্তিক পুনর্গঠনের যে কাজ চলছে, তার অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫৪ বছরের আমলাতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে একজন প্রকৃত ও প্রজ্ঞাবান আলেমকে এই পদে বসানো হয়েছে।
অ্যাডভোকেট সদরুল আমিন আরও উল্লেখ করেন, মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়— এই তিন ধারাতেই অত্যন্ত সুশিক্ষিত। তিনি কামিল, দাওরায়ে হাদিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর— প্রতিটি স্তরে প্রথম শ্রেণি অর্জন করেছেন। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই আন্তর্জাতিক মানের প্রাজ্ঞ আলেমকে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত করে রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই মজলুম আলেমকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে।
বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট সদরুল আমিন অভিযোগ করেন, এই যৌক্তিক নিয়োগের পর থেকেই আহলে হাদিস, সালাফি, লা মাযহাবী এবং জামায়াতে ইসলামীর একটি স্বার্থান্বেষী অংশ নবনিযুক্ত ডিজির বিরুদ্ধে তীব্র কুৎসা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীরা মাত্র ১৩ বছর বয়সে দাওরায়ে হাদিস পাসের একটি হাস্যকর গুজব ছড়াচ্ছে, অথচ সেই সময়ে দাওরায়ে হাদিসের কোনো আনুষ্ঠানিক সনদের অস্তিত্বই ছিল না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে নিজেদের আর্থিক দুর্নীতি ও ভ্রান্ত আকিদা প্রসারের সুযোগ হারানোর ভয়েই তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
গত ৭ জুন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী তার যোগদানপত্র জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি জানিয়ে অ্যাডভোকেট সদরুল আমিন প্রশাসনিক এই বিলম্ব নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অ্যাডভোকেট সদরুল আমিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইনসাফভিত্তিক এই সিদ্ধান্তের ওপর কোনো আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। নবনিযুক্ত ডিজির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বা তা বাতিলের অপচেষ্টা করা হলে দেশের সকল পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ ভক্তদের সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।