সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অন্তত ১২টি মামলার আসামি রাসেল আহমেদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর পান্থপথ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কুরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসছিলেন রাসেল আহমেদ। এলাকাটিতে গড়ে ওঠা নতুন শিল্পকারখানা, আবাসন প্রকল্প, ড্রেজিং, ঝুট ব্যবসা এবং ইট-বালু সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত এই বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র ও র্যাব জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিত রাসেলের সশস্ত্র দল। চাঁদা না দিলে বা তাঁদের কথা না শুনলে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং টেঁটাবিদ্ধ করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এমনকি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে র্যাব জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেলকে আইনের আওতায় আনতে বেশ কিছু দিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা শেরেবাংলা নগর থানার পান্থপথ এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় র্যাব-১১ ও র্যাব-২-এর দল। সেখান থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সোনারগাঁওয়ের কুরবানপুর এলাকায় রাসেলের বাড়ির পাশের একটি গুদাম থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার রাসেলের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও ও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।