নিজস্ব প্রতিনিধি: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার জামাত কিংবা ধর্মীয় আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় একটি মসজিদের কার্যক্রম। কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পাঁচরুখী মাদরাসা দারুল হাদীস সালাফিইয়াহ জামে মসজিদ।

স্থানীয় মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নামাজের পাশাপাশি এখানে কুরআন তিলাওয়াত, হাদিসের আলোচনা এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে খতিব ও আলেমদের আলোচনা শুনতেও নিয়মিত সমাগম হয় মানুষের।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করা হয়। অন্যায়, অনৈতিকতা ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মসজিদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, শুধু উপাসনালয় হিসেবে নয়, একটি মসজিদকে স্থানীয় মানুষের শিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মসজিদের পাশেই পরিচালিত হচ্ছে দারুল হাদীস সালাফিইয়াহ মাদরাসা। এর মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কুরআন ও হাদিসের মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও চরিত্রগত উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাঁদের ভাষ্য, একটি প্রজন্মকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাদের মধ্যে সততা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধও গড়ে তুলতে হয়। মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে তাঁরা এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

মসজিদ ও মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সুন্দর ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য শুধু ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখাও প্রয়োজন।

মসজিদ-মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিসর বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।
মসজিদ ও মাদরাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং এলাকায় একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজ আদায়, মসজিদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্থানীয় আলেম ও মুসল্লিরা মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়লে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁদের প্রত্যাশা, পাঁচরুখী মাদরাসা দারুল হাদীস সালাফিইয়াহ জামে মসজিদ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ধর্মীয় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক সহযোগিতা। সেই পথেই এগিয়ে যেতে চায় পাঁচরুখীর এই মসজিদ ও মাদরাসা।