সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অর্গানিক নিট ওয়্যার নামে একটি নিটিং কারখানার অংশীদারদের (পার্টনার) সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এ. কে. এম ইব্রাহিম খন্দকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ আত্মসাৎই নয়, কৌশলে পুরো প্রতিষ্ঠান দখল করে এখন ভেতরের মূল্যবান মেশিনারিজ অন্যত্র বিক্রি করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ইব্রাহিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে অংশীদারদের ব্যবসা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘ইব্রাহিম নিট ওয়্যার’ রেখেছেন। বর্তমানে মামুন নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ফ্যাক্টরির কার্যক্রম ও মেশিনারিজ চালাচ্ছেন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, এই প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী অংশীদার মো: মানিক মিয়া ও অন্যান্য পার্টনাররা বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালত আসামি এ. কে. এম ইব্রাহিম খন্দকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর ৪ দিন পলাতক ছিলেন ইব্রাহিম। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পাওনাদারদের সমস্ত পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে আদালতে এমন শর্ত ও মুচলেকা দিয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে ভুক্তভোগী মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আদালত থেকে সমঝোতার শর্তে জামিন নিলেও ইব্রাহিম এখন আর কোনো সমঝোতা করছেন না। আমরা আমাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করছেন। উল্টো এখন ফ্যাক্টরির ভেতরের দামী মেশিনারিজগুলো গোপনে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের ভুঁইয়াপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়াল খন্দকারের ছেলে এই এ. কে. এম ইব্রাহিম খন্দকার। অথচ ‘অর্গানিক নিট ওয়্যার প্রতিষ্ঠানটির বৈধ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে ভুক্তভোগী বাদী মানিক মিয়াসহ ৩ জন অংশীদারের নামে। এমনকি ফ্যাক্টরির বিদ্যুৎ বিলও মানিক মিয়ার নামেই চলমান রয়েছে। সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গায়ের জোরে ও কূটকৌশলে ফ্যাক্টরি দখল করে রেখেছেন ইব্রাহিম।
এই জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় আদালতে দায়ের করা মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে মো: ওমর ফারুক, শাহ আলম, আমির হোসেন, মো: স্বাধীন, মো: কাসেম মেম্বার মিয়া, মো: আব্দুল্লাহ সজিব ও মো: মাসুমকে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এ. কে. এম ইব্রাহিম খন্দকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ব্যবসায়িক অভ্যন্তরীণ কিছু হিসাব-নিকাশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। আমি কোনো প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ করিনি, আর ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ বিক্রি করার চেষ্টার বিষয়টিও সত্য নয়। ব্যবসার নিয়ম মেনেই সবকিছু চলছে। আদালত আমাকে জামিন দিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে ব্যবসায়িক অংশীদারদের ঠকিয়ে কারখানা দখল ও মালামাল বিক্রির চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: মানিক মিয়াসহ স্থানীয়রা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং পাওনা টাকা উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।