নিজেস্ব প্রতিবেদক: জালিয়াতির ওপর ভর করে পার করে দিয়েছেন দীর্ঘ ১৮টি বছর। অবশেষে শেষ রক্ষা হলো না ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) ডেমরা জোনের সেই আলোচিত মডেল কেয়ারটেকার মো. সেলিমের। ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতায় চাকরি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বড় অঙ্কের জরিমানাসহ তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই বহিষ্কারেই ক্ষান্ত নন ভুক্তভোগীরা; রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎকারী এই ‘জালিয়াত’ কেয়ারটেকারকে গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎকৃত সমুদয় অর্থ উদ্ধারের দাবিতে এখন উত্তাল ডেমরা ও দারুস সালাম জোন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. সেলিম ২০০২ সালে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাল সনদ ব্যবহার করে ইফার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’-এর মডেল কেয়ারটেকার পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা ও নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার সনদের সত্যতা নিয়ে লিখিত অভিযোগ উঠলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দীর্ঘ তদন্তে তার দাখিলকৃত সকল শিক্ষাগত সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ইফা কর্তৃপক্ষ সেলিমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। তাকে বিধি মোতাবেক চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত দুই দশকে অবৈধভাবে গ্রহণ করা বেতন-ভাতার একটি বিশাল অংশ সরকারি কোষাগারে জরিমানা হিসেবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সেলিমের জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে ডেমরা জোনের শিক্ষক, সাধারণ কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল ডেমরা জোন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি কেবল চাকরিচ্যুতিই যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির দায়ে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে ফাউন্ডেশনের আর কোন কোন অসাধু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, তা খুঁজে বের করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও তুলেছেন তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, যিনি শিশুদের দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতা শেখানোর কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন, তার নিজের ভিত্তিই যদি জালিয়াতি হয়, তবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এটি ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী। আমরা তাকে শ্রীঘরে দেখতে চাই।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "জালিয়াতির বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন তার বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে ডেমরাসহ বিভিন্ন জোনে মডেল কেয়ারটেকার ও শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর ডেমরা জোনের প্রতিটি কর্মীর নথিপত্র পুনঃযাচাই করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।