সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : বাজারে আসতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সোনারগাঁয়ের লিচু আগেভাগেই পরিপক্ক হওয়ায় এখন বাগানগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ। গাছে গাছে ঝুলছে লালচে আভা ছড়ানো লিচু, আর তা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা।
জানা গেছে, ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে সোনারগাঁয়ে লিচু চাষের সূচনা হয়। সেই থেকে সময়ের পরিক্রমায় এই জনপদের প্রায় ৮৫টি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। বর্তমানে এ বছর সোনারগাঁও পৌরসভার চিলারবাগ, দৈলেরবাগ, খাসনগর, হরিষপুর, গোয়ালদী, ভট্টপুর, টিপুরদী, বালুয়া দীঘিরপাড়, পানাম গাবতলী, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া, হামছাদী ও পঞ্চবটি এলাকার বাগানগুলোতে লিচু উৎপাদন করা হয়েছে।
আবু সাঈদ তারেক জানান, এ বছর ১১০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হলেও আগাম ফলন হওয়ায় বাজারে দাম বেশ ভালো। এ বছর সোনারগাঁয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শনিবার মোগরাপাড়া চৌরাস্তার ফলের আড়তে গিয়ে দেখা যায়,পাতি লিচু: মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসা এই লিচু প্রতি ১০০টি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। কদমী লিচু: আকারে বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা তুঙ্গে। বাজারে প্রতি ১০০ কদমী লিচু ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও স্থানীয় বাগানগুলোতে এখন পাইকারদের ভিড়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই সরাসরি লিচু সংগ্রহ করছেন। শুধু পাইকার নয়, ঐতিহাসিক সোনারগাঁ পরিদর্শনে আসা পর্যটকরাও টাটকা ও বিষমুক্ত লিচুর স্বাদ নিতে ভিড় করছেন বাগানগুলোতে।
লিচু পাকার এই সময়ে বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর উপদ্রব বেড়ে যায়। প্রিয় ফসল রক্ষায় কৃষকরা রাতে বাগানে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে এবং টিনের ড্রাম বাজিয়ে শব্দ করে পাহারা দিচ্ছেন।
হেকিম আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতে অন্তত পাঁচ লাখ লিচু আশা করেছিলেন। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে হাজার হাজার লিচু ঝরে পড়ছে। পোকার আক্রমণ বাড়ছে। লিচু আকারেও কিছুটা ছোট হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার লিচু ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত মোগরাপাড়া চৌরাস্তা মসজিদের সামনে সোনারগাঁয়ের লিচুর হাট বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারেরা এই হাট থেকে নিলামে লিচু কিনে নিয়ে যান। ২০ বছর ধরে এই হাট থেকে লিচু কিনে তিনি খুচরা বিক্রি করছেন। এ বছর প্রতি ১০০ কদমি লিচু ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষিদের মতে, বৈশাখের শুরুতে কালবৈশাখী ঝড় ও তাপদাহে কিছুটা বিপর্যয় ঘটলেও বর্তমানে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন তারা।