নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের দামামার মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই সংঘাতের স্থায়ী অবসানে আগ্রহী।
তিনি বলেন, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং উভয় পক্ষই প্রধান পয়েন্টগুলোতে একমত হয়েছে। যদি এই চুক্তিটি সফল হয়, তবে তা ইরান এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি দুর্দান্ত সূচনা হবে। তবে আলোচনার কথা বললেও ট্রাম্প কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি যোগ করেন যে, যদিও অগ্রগতি হয়েছে, তবুও তিনি এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তির শতভাগ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আলোচনার জন্য তিনি নিজে যোগাযোগ করেননি, বরং ইরানিরাই তাকে ফোন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আলোচনাগুলোতে ইসরায়েলি নেতাদেরও সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, চুক্তির যে খসড়া বা পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে, তাতে ইসরায়েলও অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবে।
ট্রাম্প যখন সমঝোতার উৎসবে মেতেছেন, তখন ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন বার্তা। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এবং অন্যান্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সংলাপ চলছে না। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে দশকের সেরা কূটনৈতিক সাফল্য। আর যদি এটি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তার পর এখন বিশ্ববাসীর নজর তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের দিকে। যুদ্ধ কি আসলেই থামছে, নাকি এটি কেবলই ঝড়ের আগের প্রশান্তিতা সময়ই বলে দেবে।