আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, খামেনি সুস্থ ও জীবিত আছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এই দাবি করেন। পরবর্তীতে বিবিসিসহ শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য প্রচার করে।
খামেনির মৃত্যু বা নিহত হওয়ার খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করে আরাঘচি বলেন, "আমার জানামতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন। শুধু তিনি নন, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাই বর্তমানে নিরাপদ ও জীবিত আছেন।
উত্তেজনা প্রশমনে আগ্রহ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ইরান এই মুহূর্তে সংঘাত বাড়াতে আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, ইরান উত্তেজনা কমাতে চায় এবং আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের হামলা বন্ধ করতে হবে।
বর্তমানে সরাসরি কোনো সংলাপ না চললেও, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে তা তারা জানে বলে মন্তব্য করেন আরাঘচি। উল্লেখ্য, মাত্র দুই দিন আগেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।
অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি একে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বরং আত্মরক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটিগুলো।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উদ্ধৃতি দিয়ে খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। খোদ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই ধোঁয়াশা আপাতত কাটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।