আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আলোচনার দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে না।
বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ইরানের এই বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তেহরান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছে: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা নিয়ে যে দাবি করেছেন, তা আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। ইরান তার পূর্বের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং চলমান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
এর আগে আজ সকালে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, গত দুই দিনে ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। এমনকি এই কথিত আলোচনার দোহাই দিয়েই তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত সামরিক হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু ইরানের এই সর্বশেষ পাল্টা বিবৃতি ট্রাম্পের ওই দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি হয়তো একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের একটি সুচতুর কৌশল হতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি: ইরানিরাই আলোচনার জন্য তাকে ফোন করেছে এবং প্রধান পয়েন্টগুলোতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো টেবিল টক বা সমঝোতা সম্ভব নয়।
তেহরানের এই অনড় অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করল। ট্রাম্পের দেওয়া ৫ দিনের আল্টিমেটাম যখন শেষ হবে, তখন পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন শান্তি চুক্তি আসন্ন, অন্যদিকে ইরান বলছে যুদ্ধের ময়দান থেকে এক চুলও সরবে না তারা।
৫ দিন পর যদি কোনো দৃশ্যমান চুক্তি না হয়, তবে পারমাণবিক বা জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।