আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একদিকে হোয়াইট হাউসের শান্তি চুক্তির জোরালো দাবি, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়াবহ গর্জন সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় সন্ধিক্ষণে। সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) থেকে আসা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি তথ্য পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ৭৬টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন টার্গেট: আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, কিং সুলতান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। হামলায় তরল জ্বালানি চালিত ‘কিয়াম’, কঠিন জ্বালানি চালিত ‘জুলফিকার’ এবং অত্যাধুনিক ‘খায়বার-শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই হামলাগুলো শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে অত্যন্ত কার্যকরভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ট্রাম্পের ‘৫ দিনের আল্টিমেটাম’ ও শান্তির বারতা, ঠিক যখন রণক্ষেত্রে বারুদের গন্ধ, তখনই ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সামনে এক বিস্ময়কর ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। ইরানিরাই আলোচনার জন্য আমাদের ফোন করেছে এবং আমরা প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোতে একমত হয়েছি। এই ইতিবাচক অগ্রগতির কারণে আমি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত সামরিক হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি।
তবে ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরান থেকে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে না। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার টেবিল বসবে না। বিবিসি ও সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ইরান তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। একদিকে ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, অন্যদিকে ৫ দিনের যুদ্ধবিরতির আল্টিমেটাম এই দ্বিমুখী অবস্থানে বিশ্ব রাজনীতি এখন চরম অনিশ্চয়তায় দুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৫ দিন হবে এই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণের চূড়ান্ত সময়। ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্য কি এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দিকে যাবে, নাকি কোনো অলৌকিক কূটনৈতিক সমাধান আসবে সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।
এদিকে, এই অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।