আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অন্তত ২০০ মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে, অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও জীবিত আছেন। এদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকা বিমানবন্দরে আটকা পড়া হাজারো যাত্রীর খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আইআরজিসি-র বড় হামলার দাবি: সেন্টকমের প্রত্যাখ্যান
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস (TASS)-এর বরাতে জানা গেছে, ইরান তাদের পাল্টাপাল্টি হামলার অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’ শুরু করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি রণতরী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেন্টকমের মুখপাত্র জানান, তাদের কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উদ্ধৃতি দিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে শনিবার রাতে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরিষ্কার জানিয়েছেন, খামেনি এবং ইরানের শীর্ষ সকল কর্মকর্তা জীবিত ও সুস্থ আছেন। তিনি আরও জানান, ইরান উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী এবং শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
বিমানবন্দরে মানবিক সংকট: মাঠে নেমেছে সরকার
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার প্রবাসী যাত্রী আটকা পড়েছেন। শনিবার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আারিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ফোনে আটকা পড়া যাত্রীদের খোঁজ নেন এবং তাদের খাবার ও আবাসনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ৮৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ওমানগামী সিলেটের যাত্রীদের সেহরির ব্যবস্থা ও এসি বাসে বাড়ি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা করতে চায় না, তবে আত্মরক্ষার স্বার্থে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
বিশ্লেষণ: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রবাসী রেমিট্যান্সের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্য দিয়ে উভয় পক্ষই এখন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত