আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ইরানকে ১৫ দফার একটি কঠোর কিন্তু কৌশলগত শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ চার সপ্তাহ ধরে চলা বিমান হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের মাঝে এই প্রস্তাবকে সংকটের একটি সম্ভাব্য ‘ডিপ্লোম্যাটিক ব্রেকথ্রু’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা। প্রস্তাবের প্রধান শর্তগুলো হলো:
ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা এবং যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সব ধরনের সামরিক ও আর্থিক সমর্থন বন্ধ করা।
বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করে দেওয়া।ওয়াশিংটন এই কঠিন শর্তগুলোর বিনিময়ে ইরানকে বড় ধরনের ‘ইনসেনটিভ’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে:
১. ইরানের ওপর থেকে সকল পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
২. দেশটির বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় চমকপ্রদভাবে সামনে এসেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ইসলামাবাদের মাধ্যমেই এই ১৫ দফার প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ রাজি থাকলে তারা সরাসরি আলোচনার (Direct Talks) আয়োজন করতেও প্রস্তুত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে তার “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে এবং তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে ইরান সরাসরি আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র “বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর” মাধ্যমে বার্তা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ দফার এই প্রস্তাব যেমন যুদ্ধের অবসানের একটি পথ খুলে দিয়েছে, তেমনি শর্তগুলোর কঠোরতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়টি তেহরান কতটুকু মেনে নেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি