নরসিংদী প্রতিনিধি : মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় ডাকাতের কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে হেদায়েতুল্লাহর (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে নদী থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।
নিহত হেদায়েতুল্লাহ উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরের চর এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন জেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে হেদায়েতুল্লাহ তাঁর চাচা চানু মিয়ার সঙ্গে নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরা অবস্থায় একটি দ্রুতগতির স্পিডবোটে একদল সশস্ত্র ডাকাত তাঁদের নৌকার কাছে আসে। ডাকাতদলের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দেখে প্রাণভয়ে চাচা-ভাতিজা দুজনেই নদীতে ঝাঁপ দেন।
চাচা চানু মিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও হেদায়েতুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ঝাঁপ দেওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ফকিরের চর সংলগ্ন নদী থেকেই হেদায়েতুল্লাহর মরদেহ ভেসে ওঠে। শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জালাল মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন দেখা গেছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নৌ-পুলিশের সহায়তায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ডাকাতদলের হামলার বিষয়টি নিহতের চাচার জবানবন্দি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।