আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তেহরান ও ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা (আল্টিমেটাম) শেষ হওয়ার মুখে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘ইউ আর ফায়ার্ড’: মনস্তাত্ত্বিক লড়াই
ইরানের সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় জুলফাগারি সরাসরি ইংরেজিতে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্রাম্প, তোমাকে বরখাস্ত করা হলো (Trump, you’re fired)। তুমি এই বাক্যের সঙ্গে পরিচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।”
উল্লেখ্য, ‘ইউ আর ফায়ার্ড’ বাক্যটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর সিগনেচার ডায়ালগ। জুলফাগারির এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা হোয়াইট হাউসের ওপর একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আঘাত হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও পাল্টা হুমকি
গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, যদি ইরান পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ‘ধূলিসাৎ’ করে দেবে।
এর জবাবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা: মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের গ্রিডে আঘাত করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্র এবং আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
পানির সংকটের হুমকি: ইরান হুমকি দিয়েছে যে, তারা এই অঞ্চলের প্রধান ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোতে (লবণাক্ত পানি মিষ্টি করার কারখানা) আঘাত করবে, যা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।
প্রণালি স্থায়ীভাবে বন্ধ: ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরসিজি) সতর্ক করেছে যে, হামলা হলে তারা হরমুজ প্রণালি ‘চিরতরে’ বন্ধ করে দেবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মহা-বিপর্যয়’
জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল একে ১৯৭০-এর দশকের সংকটের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, “বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক মহা-বিপদ বা ‘Major Threat’-এর মুখে রয়েছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি আগামী পাঁচ দিনের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন এবং একটি ‘টোটাল রেজোলিউশন’ বা চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বি-১বি (B-1B) বোমারু বিমানের উপস্থিতিতে যুদ্ধের শঙ্কা এখনো কাটেনি।