নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জে ছয় বছর বয়সী এক শিশু কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার কথা জানাজানি হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ধর্ষককে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে। গণধোলাইয়ে গুরুতর আহত হয়ে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।
গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নির্যাতিত ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বাড়ির সামনে অন্য শিশুদের সাথে খেলা করছিল ওই শিশুটি। এ সময় এলাকার চিহ্নিত ওই লম্পট শিশুটিকে চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে কাছের একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে শিশুটির গোঙানি ও আর্তচিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। সন্দেহ হলে তারা এগিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে ঘরের দরজা খোলেন এবং শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এলাকাবাসীর গণধোলাই, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে
ল্যাক্কারজনক এই ঘটনা দেখে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে ধর্ষককে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে গণধোলাই দেয় জনতা। উত্তম-মধ্যম খেয়ে একপর্যায়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে ওই ব্যক্তি।
খবর পেয়ে স্থানীয় থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় অভিযুক্তকে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে মুমূর্ষু।
এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি আমরা তদারকি করছি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি কঠোর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীর কোনো ছাড় নেই, আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।