নিজস্ব প্রতিবেদক, আনন্দের জোয়ারে ভাসছিল পরিবারটি। নতুন বউ ঘরে আসবে, হাসি-গানে মুখর হবে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রাম। কিন্তু খুলনার রূপসা থেকে ফেরার পথে মাত্র ১৫ কিলোমিটার আগেই থেমে গেল সব উল্লাস। খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বর-কনেসহ একই পরিবারের ১৪ জন।
আজ শুক্রবার সকালেও দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় দৃশ্য। পাকা সড়কের ঢালজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাইক্রোবাসের ভাঙা কাচের টুকরো। সেখানে পড়ে আছে কয়েক জোড়া জুতা-স্যান্ডেল। এর মাঝেই পড়ে থাকতে দেখা গেল একটি শিশুর চুষনি। দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৪ জনই শিশু, যাদের বয়স দুই বছরেরও কম। মায়ের কোলে শান্ত থাকা শিশুটির মুখ থেকে হয়তো ছিটকে পড়েছিল সেই চুষনিটি, যা এখন এই মর্মান্তিক ঘটনার নীরব সাক্ষী।
নিহত বর আহাদুর রহমান ছাব্বির মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে। এই একটি দুর্ঘটনায় আবদুর রাজ্জাক তাঁর দুই ছেলে, এক পুত্রবধূ, এক মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে হারিয়েছেন। স্বজন হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি। তিনি বলেন, "আমার স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সব শেষ হয়ে গেল। আমি এখন কার কাছে যাব?
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, মোংলাগামী বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির সাথে বিপরীতমুখী একটি স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ জুমার নামাজের পর মোংলা ও কয়রায় নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিয়েবাড়ির যে প্যান্ডেলে আজ নতুন বউকে ঘিরে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন সারিবদ্ধ লাশের খাটিয়া। পুরো এলাকা এখন শোকে স্তব্ধ। উৎসুক মানুষ এখনো ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন, কেউ কেউ স্মৃতি হিসেবে পড়ে থাকা জিনিসগুলো দেখে চোখের জল মুছছেন।