মুহম্মদ আল আমিন (এমএ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মহিবুল্লাহিল বাকী। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে তিনি সরকারের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য প্রশাসনে তাঁর বিশেষ সুপরিচিতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মহিবুল্লাহিল বাকী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় হজ লিডার হিসেবে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশে ফেরার পর, আগামী জুন মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সৌদি আরব থেকে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মহিবুল্লাহিল বাকী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকার আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার মর্যাদা রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সেবার মান বাড়াতে এবং এর কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকী মধ্যপন্থী আলেম ও ইসলামী গবেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি কওমি, আলিয়া ও প্রচলিত শিক্ষা ধারায় সমানভাবে শিক্ষিত একজন আলেম। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন।
কওমি ধারায় দাওরায়ে হাদিস, আলিয়া ধারায় কামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মাস্টার্স ডিগ্রির সবকটিতে তিনি প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্সে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
কর্মজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পাঠদান করেন।
ধর্মীয় অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি। তিনি চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইমামতি করেছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যাংকিং খাতের শরিয়াহ তদারকিতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরিয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ইসলামী উইংয়ের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি দেশে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে মিশর ও ভারতেও দায়িত্ব পালন করেন। আরবি, উর্দু, হিন্দি, ফারসি, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় তিনি সমান পারদর্শী।
এদিকে তাঁর এই নিয়োগের খবর প্রকাশের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এ ছাড়া তাঁর এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিতে দেশের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।