মুহাম্মদ আল আমিন (এমএ) : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন একজন গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর গত শুক্রবার পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে দলটির চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ আমলার নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে দলের যে চার নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন—মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনকালেও দায়িত্বে থাকতে পারেন। সে কারণে এ পদে নিয়োগকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নিতে তিনি আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৭৯ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং বিএনপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। পরিচ্ছন্ন ও পরিমিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি দলীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সুপরিচিত। বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মধ্যেও তাঁর নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে দলীয় মহলে তিনি সম্মানিত। তবে অন্য তিন নেতার মতো তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য নন।
দলীয় নেতাদের বাইরে একজন জ্যেষ্ঠ আমলা এবং অবসরে যাওয়া একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই মন্তব্য করেনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা অধিকতর যৌক্তিক হবে। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিবিদরা দীর্ঘদিন দল ও রাষ্ট্রের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। তবে রাষ্ট্রপতি যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত।