মুহাম্মদ আল আমিন, (এমএ): একটি সমৃদ্ধশালী, উন্নয়নশীল ও আদর্শ দেশের পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত-সে ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাহলের ১১২ নম্বর আয়াতের আলোকে এক অনন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার আল্লামা ডক্টর খলীলুর রাহমান সাজ্জাদ নোমানী। তিনি বলেন, একটি উন্নত ও আদর্শ রাষ্ট্র এবং সম্প্রীতির জনপদ গড়ে তুলতে মৌলিকভাবে দুটি বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী ও উদ্যোগী হতে হবে। প্রথমত, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ সুন্দর করা এবং দ্বিতীয়ত, দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও সর্বস্তরের মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করা; যেখানে কোনো ভয়ভীতি থাকবে না এবং কেউ অভুক্তও থাকবে না।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে আমন্ত্রিত খতিব হিসেবে উপস্থিত লাখো মুসল্লির উদ্দেশে আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি একটি নিরাপদ দেশ গড়ার লক্ষ্যে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর ঐতিহাসিক সেই দোয়ার কথা তুলে ধরেন, যা সূরা ইব্রাহীমের ৩৫ নম্বর আয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে।
দেশের জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বলেন, ‘আপনারা অনেক সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ একটি দেশ পেয়েছেন। এটি আল্লাহর তরফ থেকে আপনাদের জন্য অনেক বড় নেয়ামত। আর এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ পাক তা আরও বৃদ্ধি করে দেবেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি সূরা ইব্রাহীমের ৭ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ, আলেম-ওলামা, শিক্ষিত সমাজ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই মিলে বাংলাদেশকে এমনভাবে সাজান, যেন এই দেশটি সারা বিশ্বের বুকে একটি অনন্য নমুনা ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
বয়ানে তিনি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় দায়িত্বশীল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মুসলিম নারী-পুরুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে প্রতিদিন অন্তত কয়েকটি আয়াত হলেও অর্থ ও তরজমাসহ পবিত্র কুরআন পড়ার এবং কুরআনের মর্ম বোঝার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার তাগিদ দেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোর আহ্বান জানিয়ে এই আন্তর্জাতিক স্কলার বলেন, ‘এই দেশটিকে বিশ্বের বুকে উঁচু করে তুলে ধরার দায়িত্ব আপনাদেরই। এক্ষেত্রে শয়তান যেন আপনাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে প্রতারিত করার সুযোগ না পায়। উলামায়ে কেরামের সাথে সবসময় মজবুত সম্পর্ক বজায় রাখবেন।’ তিনি আরও বলেন, একটি উন্নত ও নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলতে সর্বপ্রথম নিজ প্রতিবেশীর অধিকার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখের প্রথম সাথী হওয়া এবং নিজের দ্বারা যেন প্রতিবেশীর কোনো ক্ষতি বা কষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।
দেশের সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আল্লামা নোমানী সবাইকে সরকারি সম্পদ নষ্ট করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মারামারি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কাজ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন। সমাজে পরস্পর প্রেম-ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা এবং রাস্তাঘাটে তাদের উত্ত্যক্ত না করার প্রতিও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পরিশেষে, সমাজ ও প্রতিবেশীর অধিকার বাস্তবায়নে নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এই দেশ ও জাতির ঈমান-আমলের হেফাজত, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে তিনি বয়ান শেষ করেন। জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালিকের আবেদনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে এক আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী।