বিশেষ প্রতিনিধি, শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি চিকিৎসায় তার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেন, রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
এর আগে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে আজ দুপুরে দেশে ফেরেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সাংবিধানিক নিয়ম ব্যাখ্যা করেন তিনি।
স্পিকার জানান, সংবিধানে বর্ণিত ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আগামী ৯০ দিনের (তিন মাস) মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের জোর গুঞ্জনের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফেরেন তিনি।