সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: মায়ের স্বপ্ন ছিল, বড় ছেলে একদিন স্বাবলম্বী হয়ে সংসারের হাল ধরবেন, ঘুচবে দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন। সেই স্বপ্ন পূরণে ভিটেমাটি বিক্রি করেছেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়েছেন। নিজের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন স্বামীহারা ফাতেমা আক্তার (৪৫)। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও নতুন করে ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই প্রবাসফেরত ছেলের বিরুদ্ধেই এবার মাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে ফাতেমা আক্তার উল্লেখ করেন, গত দুই বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে ও এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে সর্বমোট ৭ লাখ টাকা জোগাড় করে বড় ছেলে আলভীকে সৌদি আরব পাঠান। কিন্তু প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে আলভী পাল্টে যেতে থাকে। স্ত্রী সুমাইয়া ও চাচা সুমনের প্ররোচনায় পড়ে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ দেড় বছর মায়ের কোনো ভরণপোষণও দেয়নি। ফলে অর্থের অভাবে ছোট ছেলে ফারদিনকে নিয়ে অনাহারে এবং অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছেন অসহায় মা ফাতেমা আক্তার।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে আলভী অবৈধ হয়ে পড়লে তাকে জেল-জরিমানা থেকে বাঁচাতে ও দেশে ফিরিয়ে আনতে পুনরায় বিপুল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। সন্তানের বিপদে স্থির থাকতে না পেরে ফাতেমা আক্তার তার চাচাতো ভাই হাসানের সহযোগিতায় এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে কিস্তিতে টাকা তোলেন এবং হাসানের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নেন। এভাবে আরও ৩ লাখ টাকা সৌদি আরবে পাঠিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন ফাতেমা আক্তার। সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিরাট অংকের ঋণের বোঝা মাথায় নেন তিনি।
ফাতেমা আক্তার লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে তার চাচাতো ভাই হাসান পাওনা টাকা ফেরত চাইতে এলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আলভী। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলভী ও উল্লেখিত অভিযুক্তরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাসানকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ফাতেমা আক্তার ছোট ছেলে ফারদিনকে সাথে নিয়ে নিজের ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আলভী মায়ের উপরও পৈশাচিক হামলা চালায়। লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ফাতেমাকে মারাত্বক আহত করে। এক পর্যায়ে ঘরের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারে থাকা মায়ের গচ্ছিত নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থাতেই মা ফাতেমা আক্তারকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় আলভী। ছেলের নির্যাতনে আহত ফাতেমা পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলে ফাতেমা আক্তারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করে। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কায় ফাতেমা আক্তার নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রশাসনের কাছে আইনগত সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, সত্যতা মিললে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।