সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ২০ শতাংশ জমি নিয়ে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও রাতে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই সোনারগাঁ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চর ভবনাথপুর এলাকায় ২০ শতাংশ জমি নিয়ে মোস্তাক আহম্মেদ ও বকুল মিয়ার লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মোস্তাক আহম্মেদের দাবি, জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত সেখানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
মামলার বিষয়ে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে মোস্তাক আহম্মেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা বিতর্কিত ওই জমির পাশে কাজ করতে গেলে বকুল মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মোস্তাক আহম্মেদ, তার ভাই গোফরান উদ্দিন, ভাবি পারভীন ও লাইলী এবং ভাতিজা ইমন ও ইমরুলসহ দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
অন্যদিকে, বকুল মিয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, মোস্তাক মিয়ার লোকজনের হামলায় তাদের পক্ষের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারাই প্রথমে হামলা চালিয়েছেন।
সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রোববার রাতের আঁধারে মোস্তাক আহম্মেদের পূর্বে নির্মিত একটি সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা প্রাচীরের অংশগুলো রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে।
এলাকাবাসীর বরাতে জানা গেছে, বকুল মিয়া তার লোকজন নিয়ে বিতর্কিত জমিতে নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে করে যেকোনো মুহূর্তে আবারও বড় ধরনের রক্তাক্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, জমি বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিতর্কিত জমিতে গিয়ে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।