সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চর ভবনাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, চর ভবনাথপুর এলাকায় ২০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে মোস্তাক আহম্মেদ ও বকুল মিয়ার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মোস্তাক আহম্মেদের দাবি, জমিটি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে মোস্তাক আহম্মেদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই জমির পাশে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মোস্তাক আহম্মেদ, তার ভাই গোফরান উদ্দিন, ভাবী পারভীন ও লাইলী এবং ভাতিজা ইমন ও ইমরুলসহ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মোস্তাক আহম্মেদের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের লোকজন তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বকুল মিয়া। তার দাবি, সংঘর্ষে তাদের পক্ষেরও চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তার ছোট ভাই রাসেল গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চোয়ালের হাড় ভেঙে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ওই জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, যা পুলিশের জানা ছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে সময় দেওয়া হলেও তারা তা না মেনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, দুই পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।