সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ওত পাতা ছিনতাই ও ডাকাতি আতঙ্ক। কাঁচপুর সেতু এলাকা থেকে শুরু করে নয়াপুর, সাদিপুর, পিরোজপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এবং মেঘনা সেতু সংলগ্ন দীর্ঘ এলাকায় যাত্রীরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অস্ত্রের মুখে জিম্মি হচ্ছেন। কেবল সম্পদ খোয়ানোই নয়, ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপ ও হ্যাঁচকা টানে মহাসড়কে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছেন পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ভোরে কাঁচপুরমুখী দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামার পরপরই ৩-৪ জনের একদল সশস্ত্র ছিনতাইকারী এক কাপড়ের ব্যবসায়ীকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল দিতে দেরি হওয়ায় তার পায়ে ও হাতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঢাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় বাড়ি ফেরার পথে আষাড়িয়ারচর ব্রিজের ঢালে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা রিকশার নারী আরোহীর কাঁধে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে রিকশা থেকে ছিটকে মহাসড়কের ডিভাইডারের ওপর গিয়ে পড়েন তিনি। মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকদিন পর মারা যান ওই নারী।
সম্প্রতি গভীর রাতে নয়াপুর এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান থামিয়ে দেশীয় রামদা ও চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের চিত্র। চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে গাড়ি থামাতে বাধ্য করার নতুন পদ্ধতিও ব্যবহার করছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, মহাসড়কের কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট এখন ছিনতাইকারীদের মূল আখড়ায় পরিণত হয়েছে, কাঁচপুর সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম ঢাল, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা এবং রাত ১১টার পর টানা পার্টি ও পকেটমারদের মূল লক্ষ্য। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস এলাকা: দূরপাল্লার যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা এখানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন।
আষাড়িয়ারচর ও মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন নির্জন এলাকা, রাতের আঁধারে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ পথ আটকায় ছিনতাইকারীরা। নয়াপুর বাইপাস ও বৈদ্যেরবাজার সংযোগ সড়ক মোটরসাইকেল নিয়ে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা দ্রুত মালামাল লুট করে ভেতরের গ্রামের কাঁচা গলিপথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এসে সোনারগাঁও মহাসড়কে অপরাধ ঘটিয়ে অপরাধীরা দ্রুত রূপগঞ্জ বা ডেমরা এলাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ মামলা না করে থানায় কেবল 'সাধারণ ডায়েরি' (জিডি) করেন, যার কারণে অপরাধীরা জামিনে এসে বা আড়ালে থেকে বারবার একই অপরাধ ঘটাচ্ছে।
সোনারগাঁয়ের বাসিন্দাদের দাবি, কাঁচপুর থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত নিয়মিত টহল বাড়ানোর পাশাপাশি নির্জন স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
সোনারগাঁ থানা ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের চেকপোস্ট ও ফুট পেট্রোল বাড়ানো হয়েছে। চিহ্নিত ছিনতাই স্পটগুলোতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি একাধিক ছিনতাইকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।