সাতক্ষীরা ও বান্দরবান প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ এবং বান্দরবানের লামায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে স্বজনদের অগোচরে পুকুরে নেমে এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় তারা।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে পুকুরে ডুবে মামা-ভাগ্নে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো সোনাতলা গ্রামের আজগার আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (৮) এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আমিনুর বিশ্বাসের ছেলে ইকবাল হোসেন (৭)।
স্থানীয় বাসিন্দা ইশরাত আলী জানান, ইকবাল স্বজনদের সঙ্গে সোনাতলা গ্রামে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পরিবারের সদস্যরা মসজিদে গেলে ইকবাল ও তার মামা আব্দুল্লাহ বাড়ির পাশে আবু বক্কর শেখের পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত প্রথমে একজন পানিতে পড়ে যায় এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যজনও ডুবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর গাজীর স্ত্রী নাহার বেগম শিশু দুটিকে পানিতে ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশান্ত কুমার ঘোষ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানহারা দুই পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
এদিকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৭ বছর বয়সী নাহিদ নামের আরেক শিশুর। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নাহিদ ওই এলাকার মো. সুমন ও নুরুবানু দম্পতির ছেলে। তার বাবা-মা দুজনেই কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। নাহিদ রূপসীপাড়া বাজারের একটি দোকানে কাজ করত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দুপুরের দিকে সবার অজান্তে সে রূপসীপাড়া এতিমখানার পুকুরে নামে। দীর্ঘক্ষণ তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে পুকুরে ভাসতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।