নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ তিন স্কুলশিক্ষার্থীরই মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। রোববার বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলো-সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার মো. ফারুকের জমজ দুই ছেলে আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলীমের ছেলে আবির (১৪)। নিহত জমজ দুই ভাই স্থানীয় মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এবং আবির একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আজ সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় চার সহপাঠী। পরে তারা মেঘনা নদীর ভাটি বন্দর এলাকায় গিয়ে জড়ো হয়। দুপুর পৌনে একটার দিকে চারজন একসঙ্গে নদীতে গোসলে নামে। কিন্তু নামার অল্প সময়ের মধ্যেই নদীতে থাকা তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে তিনজন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় তাদের চতুর্থ বন্ধু আদিয়ান ফারিজ কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বাঁচে।
নদীতে বন্ধুদের ভেসে যেতে দেখে আদিয়ানের কান্নাকাটি ও চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশকে জানান। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর বিকেলে নদী থেকে তিন শিক্ষার্থীর মরদেহই উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নদী থেকে তিন শিক্ষার্থীরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়া একই পরিবারের দুই জমজ ভাইসহ তিন শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।