বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা : আজ ২৬ মার্চ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাঙালির আত্মপরিচয় ও গৌরবময় স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল পরাধীন বাংলার দামাল ছেলেরা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০ লাখ শহীদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সেই লাল-সবুজের পতাকাকে আজ পরম মমতায় ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে কৃতজ্ঞ জাতি।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ আজ ভোরেই বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে বীর শহীদদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপরই মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সাধারণ মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধের দুয়ার উন্মুক্ত থাকবে সারা দিন।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে ২৫ মার্চের গণহত্যার নৃশংসতা স্মরণ করে বলেন, ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতির ধারাকে বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
দিবসটির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও দর্শনীয় ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রবেশের জন্য গেট নম্বর ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকা মূল্যমানের ডেটাকার্ড উদ্বোধন করেছেন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি এসব স্মারক উন্মোচন করেন।
যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সাভার স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করছে বাংলাদেশ।