নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে।
নিহত নারীর নাম তাহমিনা আক্তার তানিয়া (৩৫), যিনি দুই সন্তানের জননী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী হোসেন তাইফুরকে আটক করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, অভিযুক্ত তাইফুর সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে তাহমিনা ও তাইফুরের বিয়ে হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক কলহ চলছিল। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাইফুর মাদকাসক্ত হওয়ায় সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত, যার ফলে তানিয়া অধিকাংশ সময় বাবার বাড়িতেই অবস্থান করতেন। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তানিয়া স্বামীর বাড়িতে যান। এরপরই গভীর রাতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহইয়া আল মামুন জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাইফুর ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তানিয়ার ওপর হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে তাইফুর মরদেহটি বিছানার ওপর রেখে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘরে আগুনের সূত্রপাত হলে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ ঘর থেকে তানিয়ার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত হোসেন তাইফুরকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই তুহিন ফয়সাল এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।